কীভাবে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করবেন

প্রথম ধাপ হিসেবে, আমরা আপনাকে আমাদের ক্যুইজ "আমি কি গর্ভবতী?"-এ অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি এবং তারপর আপনি গর্ভবতী কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য একটি প্রেগনেসন্সি টেস্ট করার সুপারিশ করছি।
কীভাবে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করবেন

একটা প্রেগনেন্সি টেস্ট কী?

একটা প্রেগনেন্সি টেস্ট আপনার প্রস্রাব বা রক্তে হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন (এইচসিজি) হরমোনের উপস্থিতি সনাক্ত করে, যা শুধুমাত্র আপনি যখন গর্ভবতী হন তখনই উৎপন্ন হয়।

এইচসিজি তখনই নির্গত হয় যখন একটি গর্ভনিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর দেওয়ালে সাথে নিজেকে সংযুক্ত করে, যা সাধারণত গর্ভনিষিক্ত হওয়ার প্রায় ছয় দিন পরে ঘটে। যখন এমনটা ঘটে, শরীরে দ্রুত এইচসিজি-র মাত্রা বেড়ে যায়

প্রেগনেন্সি টেস্টের ধরন

দু’ধরনের টেস্ট আছে – প্রস্রাব ও রক্ত – প্রতিটিরই নির্ভুলতার নিজস্ব একটা স্তর রয়েছে।

এটি ‘হোম প্রেগনেন্সি টেস্ট’ নামেও পরিচিত, প্রস্রাব পরীক্ষা দ্রুত, ব্যবহার করা সহজ এবং ব্যক্তিগত। এই পরীক্ষা করতে, আপনাকে একটা বিশেষভাবে তৈরি টেস্ট স্ট্রিপকে আপনার প্রস্রাবের সংস্পর্শে আনতে হবে। এটা একাধিক উপায়ে করা যায়

আপনার প্রস্রাব স্রোতের নিচে টেস্ট স্ট্রিপটি ধরে রাখুন
আপনার প্রস্রাব স্রোতের নিচে টেস্ট স্ট্রিপটি ধরে রাখুন
একটি কাপে আপনার প্রস্রাব সংগ্রহ করুন এবং তাতে টেস্ট স্ট্রিপটি ডোবান
একটি কাপে আপনার প্রস্রাব সংগ্রহ করুন এবং তাতে টেস্ট স্ট্রিপটি ডোবান
একটি কাপে আপনার প্রস্রাব সংগ্রহ করুন এবং একটা ড্রপার দিয়ে টেস্ট স্ট্রিপটিতে প্রস্রাব ফেলুন
একটি কাপে আপনার প্রস্রাব সংগ্রহ করুন এবং একটা ড্রপার দিয়ে টেস্ট স্ট্রিপটিতে প্রস্রাব ফেলুন
নির্ভুলতা

রক্ত পরীক্ষার মতোই প্রস্রাব পরীক্ষাও সুনির্দিষ্ট হতে পারে, এগুলি 97-99% নির্ভুল। আপনার পিরিয়ড ইতিমধ্যেই বিলম্বিত হলে নির্ভুলতা বেশি হয়।

কখন টেস্ট করতে হয়

ইউরিন প্রেগনেন্সি টেস্ট নেওয়ার আগে আপনার মিস পিরিয়ডের প্রথম দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করাই বাঞ্ছনীয়। এটা সাধারণত গর্ভধারণের প্রায় দু’সপ্তাহ পরে ঘটে। তবে, বাকিগুলির তুলনায় কয়েকটি পরীক্ষা আরো বেশি সংবেদনশীল এবং সেগুলি আগেই করানো যেতে পারে।

যদি আপনি নেগেটিভ রেজাল্ট পান, তাহলে এক সপ্তাহ পর আরেকবার যাচাই করতে ফের পরীক্ষা করুন। আপনার প্রথম ফলাফল যাই আসুক না কেন কয়েকটি হোম প্রেগনেন্সি টেস্টে এমনটা করাই বাঞ্ছনীয়।

কোথায় পরীক্ষা করাতে পারবেন

কোনো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ফার্মেসি থেকে আপনি হোম প্রেগনেন্সি টেস্টের একটা কিট কিনতে পারেন। ব্র্যান্ডের উপর দাম নির্ভর করে তবে বেশিরভাগ টেস্টই খুব বেশি খরচসাপেক্ষ নয়। আপনি কোন দেশে থাকেন তার উপর নির্ভর করে আপনি জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রেগনেন্সি টেস্ট করাতে পারবেন কিনা। ইউরিন প্রেগনেন্সি টেস্ট কেনার সময় সেটার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি সেব্যাপারে নিশ্চিত হোন এবং সতর্কতার সঙ্গে নির্দেশাবলীগুলি পড়ুন যাতে আপনি বুঝতে পারেন কীভাবে এটা কাজ করে।

টেস্টের ফলাফল

প্রতিটি ব্র্যান্ডের ফলাফল দেখানোর নিজস্ব উপায় আছে; এটি প্লাস বা মাইনাস চিহ্ন, বার হতে পারে অথবা এটি একটি ডিজিটাল পরীক্ষা হলে, তাতে “প্রেগন্যান্ট” বা ” প্রেগন্যান্ট নয়” শব্দটি দেখাতে পারে। কোন বিভ্রান্তি এড়াতে ফলাফলটি কেমন দেখাবে তা জানতে নির্দেশাবলীটি মনোযোগ সহকারে পড়া জরুরী।

নন-ডিজিটাল টেস্টগুলির জন্য আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে: ফলাফলগুলি দেখতে কতটা সহজ সরল হতে পারে তা বিবেচ্য নয়, আপনি যদি একটি পাতলা “+” চিহ্ন বা একটি বার যা অন্যটির চেয়ে স্পষ্ট দেখতে পান তাহলেও এটি একটি পজিটিভ ফলাফল। অন্য বারের কোন চিহ্ন না থাকলে তবেই আপনি একটি ফলাফলকে নেগেটিভ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।

অবশ্য ভুয়ো পজিটিভ রেজাল্টের ঘটনা ঘটে যেখানে পরীক্ষা বলে আপনি গর্ভবতী অথচ আপনি তখন তা নন। আপনার প্রস্রাবে রক্ত বা প্রোটিন থাকলে এমনটি ঘটতে পারে; যেমন ট্র্যানকুইলাইজার, অ্যান্টিকনভালসেন্ট, হিপনোটিক, এবং ফার্টিলিটির ওষুধের মতো কিছু ওষুধও এর কারণ হতে পারে।

টেস্টের ফলাফল

রক্ত পরীক্ষা কোনো প্রস্রাব পরীক্ষার আগে গর্ভাবস্থা শনাক্ত করতে পারে – ডিম ফোটার প্রায় ছয় থেকে আট দিন পরে, তবে বাড়িতে গর্ভাবস্থা পরীক্ষার তুলনায় এক্ষেত্রে ফলাফল পেতে বেশি সময় লাগে।

দু’ধরনের রক্ত পরীক্ষা রয়েছে:

গুণগত

এই ধরনের পরীক্ষা আপনার রক্তে এইচসিজি আছে কিনা তা পরীক্ষা করে। এই পরীক্ষাগুলি গর্ভধারণের প্রায় 10 দিন পরে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করতে পারে।

পরিমাণগত

এই ধরনের পরীক্ষা আপনার রক্তে এইচসিজি-র মাত্রা পরিমাপ করে এবং খুব কম মাত্রাও এই পরীক্ষা সনাক্ত করতে পারে। ডাক্তাররা সাধারণত এইচসিজি স্তরের পরিবর্তনগুলি ট্র্যাক করতে এবং এক্টোপিক বা অস্বাভাবিক গর্ভাবস্থা সনাক্ত করতে এই ধরনের পরীক্ষা কাজে লাগান।

Ectopic Pregnancy – BN

যখন একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর মূল গহ্বরের বাইরে গেঁথে যায় এবং বেড়ে ওঠে, সাধারণত ফ্যালোপিয়ান টিউবে, যা ডিম্বাশয়কে জরায়ুর সাথে সংযুক্ত করে তখনই একটি অ্যাক্টোপিক বা অস্বাভাবিক গর্ভাবস্থা ঘটে।

নির্ভুলতা

প্রেগনেন্সি ব্লাড টেস্টগুলি মোটামুটি 99% নির্ভুল।

কখন টেস্ট করতে হয়

আপনার ডিম্বস্ফোটনের প্রায় সাত দিন পরে রক্ত ​​পরীক্ষা করা যেতে পারে (যা আপনার পিরিয়ড হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ আগে) এবং তাতেও সঠিক ফলাফল দেয়।

কোথায় পরীক্ষা করাতে পারবেন

রক্ত পরীক্ষার জন্য, আপনি একজন ডাক্তারের কাছে যেতে পারেন বা সরাসরি ল্যাবোরেটরিতে যেতে পারেন; এদের বেশিরভাগই এই পরীক্ষা করে থাকে। এগুলিতে ইউরিন টেস্টের থেকে বেশি খরচ পড়ে।

টেস্টের ফলাফল

একজন স্বাস্থ্য পরিচর্যাকারীকে আপনার রিপোর্টগুলি দেখাতে হবে এবং তিনি আপনাকে বলবেন যে আপনার এইচসিজি-র স্তর কী এবং এর মানে কী। এই মাত্রাগুলি মাপা হয় প্রতি মিলিলিটার রক্তে (mIU/mL)এইচসিজি হরমোনের মিলি-আন্তর্জাতিক এককে।

আপনি কি জানতে চান কীভাবে গর্ভাবস্থা হয়? আমাদের “কীভাবে গর্ভাবস্থা হয়?” পেজে যান। প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার জন্য

যদি এটি একটি অপরিকল্পিত গর্ভাবস্থা হয়, আপনি যদি মা হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত না হন তাহলে আপনার কাছে উপলব্ধ বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে জানতে আমাদের “গর্ভাবস্থার বিকল্প” পেজটি দেখুন।

যদি আপনার পিরিয়ড অনিয়মিত হয়, বা আপনার তা একেবারেই না হয়, তাহলে আমরা আপনাকে যৌন মিলনের তিন সপ্তাহ পর গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছি।

টেস্টের ফলাফল

তথ্যসূত্র